হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
পর্ব ১
বহুল প্রচারিত ইসরাইলী পত্রিকা হাআরেত্স্: ইসরাইল মরে যাচ্ছে (ইসরাইল মৃত্যু বরণ করছে)!!!
এই পত্রিকা লিখেছে যে নেতানিয়াহু যায়নবাদী ইসরাইলী সমাজকে পূর্বের চেয়ে বেশি ধ্বংস করেছে ও ভেঙে দিয়েছে; সেনাবাহিনী ছিন্নভিন্ন ও ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে;আর এই যায়নবাদী (ইসরাইলী) সরকার (ও রাষ্ট্র) মৃত্যু পথযাত্রী!!!
এই পত্রিকার মতে: "নেতানিয়াহু চলে যাবে। কিন্তু রাষ্ট্রটিও (ইসরাইল) তার সাথে মরে যাবে!!!
Netanyahu will go but the state will die with him!
(Haaretz,2-5-2026)
হাআরেত্স্ লিখেছে:বিশ্ব ইসরাইলকে ঘৃণা করে এবং ইসরাইলের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
হারেত্স্ ৪ দিন আগে লিখেছিল:
Can İsrael's grief be transformed into hope?
Israel's young soldiers are dying in protracted wars that increasingly serve political interest over national security.
(( ইসরাইলের দু:খ কি আশায় রূপান্তরিত হতে পারে? দীর্ঘস্থায়ী প্রলম্বিত যুদ্ধ সমূহে ইসরাইলের তরুণ সৈন্যরা প্রাণ হারাচ্ছে।অথচ এ সব যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার ওপর বর্ধিত হারে (রাজনৈতিক নেতাদের বিশেষ করে নেতানিয়াহুর) রাজনৈতিক স্বার্থ চারিতার্থ করছে।)) ইতরাইলের (ইসরাইল) অভ্যন্তরীণ ভয়াবহ অবস্থা:
বহুল প্রচারিত যায়নবাদী ইতরাইলী দৈনিক হাআরেত্স্ (আল-আর্দ্ব্ অর্থাৎ পৃথিবী) ইতরাইলে বেকারত্বের হারের অভূতপূর্ব বৃদ্ধি সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করেছে।
হাআরেত্স্:ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এক মিলিয়ন যায়নবাদী ইসরাইলীর জীবনকে প্রভাবিত করেছে।
হাআরেত্স্: ইরান ও হিযবুল্লাহ ইতরাইলের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সম্পদ এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা সমূহ যেমন: বাযান তেল শোধনাগারকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছে।(৪-৫-২০২৬)
((ইতরাইলী এই সংবাদ পত্রের রিপোর্ট থেকে প্রতীয়মান হয়ে যায় যে ইরানের বিরুদ্ধে ইতরাইল ও মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) চাপিয়ে দেওয়া ৪০ দিন যুদ্ধে মাযুরার মতো ইতরাইলেরও করুণ দুর্দশা হয়েছে!!))
সম্প্রতি (৩-৫-২০২৬) বহুল প্রচলিত ইসরাইলী এই দৈনিকটি যখন ইসরাইলের অস্তিত্ব বিলুপ্তি ও ধ্বংসের কথা বলছে তখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে এই কৃত্রিম যালেম অস্বাভাবিক সন্ত্রাসী সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রটি আর বেশি দিন টিকবে না।কারণ অন্যায় ও যুলুমের ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশ টিকে থাকতে পারে না।
সবার জানা আছে যে ইসরাইলের (ইতরাইল বলাই শ্রেয়) প্রতিষ্ঠাই হয়েছে সন্ত্রাস, গণহত্যা, প্রজন্ম হত্যা, লুণ্ঠন, জবর দখল ও মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধের মধ্য দিয়ে। কৃত্রিম মেকি যালেম এ রাষ্ট্রটি এর প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই এর সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও দেশের বিরুদ্ধে ভয়াবহ লোমহর্ষক রক্তাক্ত আগ্রাসন,যুদ্ধ ও বিরোধে লিপ্ত। এ রাষ্ট্রটি যখন থেকে ফিলিস্তিন জবর দখল এবং এর অধিকাংশ ফিলিস্তিনী অধিবাসীকে দেশটি থেকে বলপূর্বক সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে উচ্ছেদ ও বহিস্কার করেছে এবং আজও জোর করে দখলদার ইতরাইলীরা ফিলিস্তিনীদের বাড়ীঘর, ভিটামাটি, ক্ষেত-খামার, ভূমি ও শস্য কেড়ে নিচ্ছে।
শুধু এই পত্রিকাটি নয় আরো একটি যায়নবাদী পত্রিকা ইসরাইল হাইয়াওম (আজকের ইসরাইল) ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর সফল তূফানুল আকসা অভিযানের পরপরই লিখেছিল: "এটা (৭ অক্টোবর ২০২৩ হামাসের নেতৃত্বে তূফানুল আকসা অভিযান) ইসরাইলের খতম (শেষ) ও পরিসমাপ্তি (ঘটিয়েছে)!!!! "We won't win in Gaza (আমরা গাযায় জিতব না)-এ শিরোনামে গাবী শেফফের (Gabi Sheffer)- এর লেখা প্রবন্ধ যা ৩১-১২-২০০৭ প্রসিদ্ধ ইসরাইলী সংবাদ পত্র ও মাধ্যম ynetnews.com-এ প্রকাশিত হয়েছিল তাতে তিনি লিখেছিলেন: "İDF hasn't won a war in 30 years;noting that Gaza reoccupation will lead to victory false [আইডিএফ 30 বছরে (১৯৭৮-২০০৭) একটি যুদ্ধেও জিতে নি; (সেই সাথে) লক্ষ্যনীয় যে গাযা পুনর্দখল মেকি (মিথ্যা) বিজয়ের দিকে পরিচালিত করবে।] শুধু এই ৩০ বছরেই নয় বরং ২০০৭ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত গাযার বিরুদ্ধে যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে সেগুলোর কোনো একটিতেও ইতরাইল বিজয়ী হতে পারে নি।আর ৭-১০-২০২৩ থেকে ৭-১০-২০২৫ পর্যন্ত টানা দু' বছর গাযার বিরুদ্ধে জলে স্থলে অন্তরীক্ষে সর্বাত্মক ব্যাপক ভয়াবহ নৃশংস আগ্রাসন, আক্রমণ ও যুদ্ধ করে ঘৃণ্য গণহত্যা, প্রজন্ম হত্যা, জাতিগত নিধন ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও ইতরাইল সম্পূর্ণ গাযা জবর দখল করতে,হামাসকে উচ্ছেদ ও নিশ্চিহ্ন করতে, হামাসের হাতে বন্দী ইতরাইলী যুদ্ধবন্দীদের একজনকেও কম্যান্ডো অভিযান চালিয়ে মুক্ত করতে পারে নি অর্থাৎ এ যুদ্ধে ইতরাইল যুদ্ধে ঘোষিত তার লক্ষ্য সমূহের কোনো একটিও অর্জন করতে পারে নি।
অথচ ইতরাইল ১৯৬৭ সালের ৬ দিনের যুদ্ধে মাত্র ৬ ঘন্টার মধ্যে পুরো গাযা উপত্যকা মহাশক্তিধর (?) মুসলিম রাষ্ট্র মিসরের হাত থেকে দখল করে নিয়েছিল!!! আর এখান থেকেই মিসরের মতো তথাকথিত আধুনিক সেক্যুলার শক্তিধর রাষ্ট্রের সাথে হামাস, হিযবুল্লাহ, হূথী-আনসারুলাহ, হাশদুশ শা'বীর মতো ইসলামী প্রতিরোধকারী মুক্তিকামী সংগঠন ও আন্দোলন সমূহের মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। আর স্মর্তব্য যে,এ সব প্রতিরোধ সংগ্রামী আন্দোলন ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয় ও ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে ইমাম খোমেইনী এবং তাঁর পরে শহীদ রাহবার আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর ইসলামী বিপ্লবী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ইতরাইল ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামের জন্য আত্ম প্রকাশ করে এবং নিরবচ্ছিন্ন অনাপোষকারী প্রতিরোধ সংগ্রামের পথ বেছে নিয়ে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে ইতরাইলকে প্রথম বারের মতো ধরাশায়ী ও আগ্রাসী দখলদার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে বেহাল ও ব্যর্থ করে। অথচ মাযুরার তত্ত্বাবধান ও পৃষ্ঠপোষকতায় ইতরাইল এ দীর্ঘ সময়ে মিসর, জর্দান, আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, সুদান, মরক্কোর মতো কিছু মুসলিম দেশের পশ্চিমাদের ধামাধরা মাযুরা পন্থী খায়েন (বিশ্বাসঘাতক) সরকারগুলো এমনকি পিএলওর মতো ফিলিস্তিনী সংগঠনের সাথেও ক্যাম্প ডেভিড ও অসলো চুক্তির মতো বিভিন্ন ধরনের চাপিয়ে দেওয়া চুক্তি স্বাক্ষর করার মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ফেলে এবং আপোষকামী এ সব সরকারের কাছ থেকে অবৈধ কৃত্রিম মেকি যালিম জবরদখলকারী ইতরাইলী রাষ্ট্রের স্বীকৃতিও আদায় করে নেয়। উল্লেখ্য যে এ স্বীকৃতি এ সব পশ্চিমা ও মাযুরা পন্থী সরকারগুলোর স্বীকৃতি;তবে তা এ দেশগুলোর জাতি ও জনগণ এবং মযলূম ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ফিলিস্তিনী জাতি ও জনগণের স্বীকৃতি ছিল না।
এত সব পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও ছলচাতুরি করেও ইতরাইল ও মাযুরা এ অঞ্চলের জাতি ও জনগণকে প্রতিরোধ সংগ্রামের পথ থেকে বিরত রাখতে পারে নি। বরং ইতরাইলের বিরুদ্ধে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নেতৃত্বে জাতিসমূহের প্রতিরোধ সংগ্রাম দিন দিন শক্তিশালী হয়ে অব্যাহত আছে যার চূড়ান্ত রূপ ও পর্যায় হচ্ছে ইরানের ওপর ইতরাইল ও মাযুরার চাপিয়ে দেওয়া সর্বশেষ এ যুদ্ধ যার শুরু ও সূত্রপাত হয়েছে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং ৪০ দিন চলার পর এখন যুদ্ধবিরতি হয়েছে; কিন্তু এখনও তা সমাপ্ত হয় নি।আর সর্বশেষ এ যুদ্ধ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ পরিগ্রহ করেছে এবং যেমন ভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ঠিক তেমনি আগ্রাসী যুদ্ধবাজ ইতরাইলকে তীব্র অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছে যার খবর ইতরাইলী সংবাদ পত্র-পত্রিকা ও মাধ্যম সমূহ বিশেষ করে হাআরেত্সে অতি সম্প্রতি প্রকাশিত ও প্রতিফলিত হয়েছে!!!
যদিও পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম সমূহ এ ব্যাপারে মুখ খুলছে না বরং দেখাচ্ছে যে এ যুদ্ধে মাযুরা ও ইতরাইল সফল ও বিজয়ী এবং ইরান ও প্রতিরোধ সংগ্রামী অক্ষই পরাজিত ও ব্যর্থ।অবস্থা দৃষ্টে প্রতীয়মান হয় যে ইতরাইলী সংবাদ পত্র ও মাধ্যম সমূহের চেয়ে পশ্চিমা সংবাদ পত্র ও মাধ্যম সমূহ অধিক মিথ্যাবাদী ও সত্য গোপনকারী।কারণ ইতরাইলের অস্তিত্ব সংকট হারে হারে টের পাচ্ছে ইতরাইলী দখলদার জনগণ এবং এদের সংবাদ মাধ্যম সমূহ।
টীকা:
১. মাযুরা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংক্ষিপ্তকরণ
২. ইতরাইল: ইসরাইল (কারণ, দেশটি মেকি, কৃত্রিম, অসভ্য, ইতর, অভদ্র, বদমাইশ, আগ্রাসী, যুদ্ধবাজ, সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসবাদী, গণহত্যাকারী, জবরদখলকারী, যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী, ফিৎনা-ফ্যাসাদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিনষ্টকারী)
পর্ব-১ সমাপ্ত
ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট